জমি শোধন থেকে শুরু করে চারা শোধন, সবকিছুই করলাম তবুও এই অবস্থা। থ্রিপস,সাদা মাছি, মাকড় এবং সকল ধরনের শোষক পোকা দমনের জন্য নিয়মিত স্প্রে করে যাচ্ছি তবুও কাজ হচ্ছে না। আবার কিছু গাছ ঢলে পড়ে মরে

md. Ridhoy islam
md. Ridhoy islam
15 Oct, 2026 8 Views

জমি শোধন থেকে শুরু করে চারা শোধন, সবকিছুই করলাম তবুও এই অবস্থা।

পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করবেন এই মোজাইক ভাইরাস এর জন্য কি স্প্রে করতে পারি?

Share

Answers (1)

SROT Expert

SROT Expert

16 Oct, 2026
আপনার জমিতে দুটি ভিন্ন ধরনের বড় সমস্যা একসাথে দেখা দিয়েছে: প্রথমত, শোষক পোকার কীটনাশক রেজিস্ট্যান্স (প্রতিরোধ ক্ষমতা) তৈরি হওয়া এবং দ্বিতীয়ত, মাটিবাহিত ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকজনিত ঢলে পড়া (Wilt) রোগ। আপনি জমি ও চারা শোধন করলেও অবহাওয়া, অতিরিক্ত আর্দ্রতা বা আশেপাশের ক্ষেত থেকে এই সংক্রমণ পুনরায় ছড়াতে পারে। এই মারাত্মক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আপনার জন্য করণীয়সমূহ নিচে দেওয়া হলো: ১. শোষক পোকা (থ্রিপস, সাদা মাছি, মাকড়) দমনের নতুন কৌশল নিয়মিত একই কীটনাশক স্প্রে করার কারণে পোকাগুলোর শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা চলে এসেছে। তাই গ্রুপ পরিবর্তন করে নিচে বর্ণিত নিয়মে স্প্রে করুন: • সাদা মাছি ও থ্রিপস: শুধু ইমিডাক্লোরোপ্রিড বা অ্যাসিটামিপ্রিড দিয়ে কাজ না হলে ডায়াফেনথিউরন (Diafenthiuron) গ্রুপের কীটনাশক (যেমন: পেগাসাস/পলো) প্রতি লিটার পানিতে ১ গ্রাম হারে মিশিয়ে বিকেলে স্প্রে করুন। অথবা স্পিনোসাড (Spinosad) গ্রুপের ওষুধ (যেমন: সাকসেস/ট্রেসার) ব্যবহার করতে পারেন। • লাল মাকড়: মাকড় সাধারণ কীটনাশকে মরে না। এর জন্য আলাদা মাকড়নাশক যেমন অ্যাবামেকটিন (Abamectin) গ্রুপের (যেমন: ভার্টিমেক/সানমেকটিন) প্রতি লিটার পানিতে ১.৫ মিলি অথবা ফেনপায়ারোক্সিমেট গ্রুপের মাকড়নাশক স্প্রে করতে হবে। • ব্যবস্থাপনা: স্প্রে করার সময় পাতার নিচের পিঠে যেন ভালোভাবে ওষুধ লাগে তা নিশ্চিত করুন। ৭ দিন পর পর ওষুধ পরিবর্তন (Rotate) করে স্প্রে করবেন। ২. গাছ ঢলে পড়া (Wilt Disease) রোগের সমাধান গাছ হঠাৎ সবুজ অবস্থায় ঢলে পড়ে মারা যাওয়ার মূল কারণ দুটি—ব্যাকটেরিয়া অথবা ছত্রাকের আক্রমণ। • রোগ শনাক্তকরণ (গ্লাস টেস্ট): একটি আক্রান্ত গাছের গোড়ার কাণ্ড ২ ইঞ্চি কেটে পরিষ্কার গ্লাসের পানিতে ৫ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন। যদি কাটা অংশ থেকে সুতার মতো সাদা পুঁজ বা রস (Bacterial ooze) বের হয়, তবে বুঝবেন এটি ব্যাকটেরিয়াজনিত ঢলে পড়া। আর যদি কোনো রস না বের হয় কিন্তু ভেতরের নালী বাদামী হয়ে যায়, তবে এটি ছত্রাকজনিত ঢলে পড়া। প্রতিকার ও চিকিৎসা: 1. আক্রান্ত গাছ অপসারণ: ঢলে পড়া গাছ দেখামাত্র শিকড়সহ মাটি খুঁড়ে তুলে ক্ষেত থেকে দূরে পুড়িয়ে বা গর্তে পুঁতে ফেলুন। আক্রান্ত গাছের গোড়ায় পানি দেবেন না, এতে জীবাণু অন্য গাছে ছড়ায়। 2. ব্যাকটেরিয়াজনিত হলে: কাণ্ডের কাটা অংশ থেকে রস বের হলে, প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ গ্রাম স্ট্রেপ্টোমাইসিন সালফেট + টেট্রাসাইক্লিন হাইড্রোক্লোরাইড (যেমন: ক্রোসিন/অ্যান্টিব্যাক/প্যাকটোল) এবং ২ গ্রাম কপার অক্সিক্লোরাইড (যেমন: কুপ্রোফিক্স/চ্যাম্পিয়ন) একসাথে মিশিয়ে সুস্থ গাছের গোড়ার মাটিতে (Drenching) ভালোভাবে ভিজিয়ে দিন। এটি ৫-৭ দিন পর ২-৩ বার করুন। বাজারে প্রাপ্ত বিসমার্থিওজল বা ভ্যালিডামাইসিন গ্রুপের ওষুধও ভালো কাজ করে। 3. ছত্রাকজনিত হলে: গ্লাসের পানিতে রস না বের হলে, প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম মেটালেক্সিল + ম্যানকোজেব (যেমন: রিডোমিল গোল্ড) অথবা কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক গাছের গোড়ার মাটিতে স্প্রে ও সেচন করুন। অতিরিক্ত সতর্কতা • এই মুহূর্তে জমিতে অতিরিক্ত নাইট্রোজেন বা ইউরিয়া সার দেওয়া বন্ধ রাখুন, এতে রোগ আরও বাড়ে। • জমিতে যেন পানি জমে না থাকে, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো রাখুন। • পরবর্তী মৌসুমে এই জমিতে একই গোত্রের ফসল (যেমন: টমেটো, বেগুন, মরিচ, আলু) টানা ২-৩ বছর চাষ করা থেকে বিরত থাকুন (শস্য পর্যায় অবলম্বন করুন)

Srot BD – Empowering Every Step of Agriculture

👉 বাংলাদেশের কৃষকদের জন্য ফ্রি কৃষি পরামর্শ ও সমাধান প্ল্যাটফর্ম
👉 “Ask experts. Solve crop problems. Improve yield.”